তাপমাত্রার তারতম্যে ফলনে বড় ক্ষতির আশঙ্কা, করণীয় জানাল কৃষি বিশেষজ্ঞরা
মার্চ মাসে বোরো ধানের থোর গঠন ও শীষ বের হওয়ার সময় তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে অনেক ক্ষেত্রে শীষ আংশিক বা সম্পূর্ণ সাদা হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এতে ধানের ফলন মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষ করে যেসব জমিতে ধান এখন থোর অবস্থায় আছে বা শীষ বের হচ্ছে, সেসব জমিতে এই সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
কেন হয় এই সমস্যা
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপমাত্রার অস্বাভাবিক ওঠানামাই এ সমস্যার মূল কারণ।
- থোর অবস্থায় রাতের তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে
- ফুল ফোটার সময় রাতের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকলে
- অথবা দিনের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে
ধানের শীষের গোড়া বা আগা সাদা হয়ে যেতে পারে, যাকে অনেক কৃষক “ছিটা ধান” সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন।
করণীয়: যেভাবে ক্ষতি কমাবেন
কৃষকদের জন্য কিছু কার্যকর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা:
১. জমিতে পানি ধরে রাখুন
থোর গঠন থেকে শুরু করে দানা শক্ত হওয়া পর্যন্ত জমিতে পর্যাপ্ত পানি রাখলে তাপমাত্রার বিরূপ প্রভাব কমে যায় এবং শীষ সাদা হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস পায়।
২. ডিপিএন (DPN) দ্রবণ স্প্রে করুন
রাতের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামলে ডিপিএন দ্রবণ স্প্রে করা যেতে পারে।
ডিপিএন দ্রবণ তৈরির পদ্ধতি:
- পটাশ: ৬০ গ্রাম
- সালফার: ৩০ গ্রাম
- চিলেটেড জিংক: ৩ গ্রাম
- পানি: ১০ লিটার
সব উপাদান পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।
যে ভুলগুলো করবেন না
অনেক কৃষক অজ্ঞতাবশত কিছু ভুল করে থাকেন, যা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তোলে:
🚫 অপ্রয়োজনীয় ছত্রাকনাশক বা পিজিআর ব্যবহার
কিছু অসাধু ডিলারের পরামর্শে অযথা কীটনাশক বা গ্রোথ রেগুলেটর (PGR) ব্যবহার করলে অর্থ অপচয় হয়, কিন্তু সমস্যার সমাধান হয় না।
🚫 থোর অবস্থায় ইউরিয়া সার প্রয়োগ
থোর অবস্থায় ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করলে ফলনের ক্ষতি হতে পারে, তাই এটি এড়িয়ে চলা উচিত।
কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিন
যেকোনো সমস্যায় সঠিক পরামর্শ পেতে কৃষকদের নিকটস্থ উপজেলা কৃষি অফিস অথবা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
বিশ্লেষণ: সময়মতো সচেতনতা মানেই ফলন রক্ষা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সমস্যা কোনো রোগ নয়, বরং পরিবেশগত কারণে সৃষ্ট একটি শারীরবৃত্তীয় সমস্যা। তাই সময়মতো সঠিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করলে সহজেই ক্ষতি কমানো সম্ভব।
সচেতনতা ও সঠিক কৃষি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই কৃষকরা তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলন নিশ্চিত করতে পারবেন।

