চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের মাস্টার পাড়ার কৃতি সন্তান প্রসেনজিৎ দাস অর্জন করেছেন অতীশ দীপঙ্কর ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির সর্বোচ্চ একাডেমিক সম্মান “বোর্ড অব ট্রাস্টিজ স্বর্ণপদক”। গত ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ কনভোকেশন অনুষ্ঠানে অসাধারণ একাডেমিক কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে তার হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
অতীশ দীপঙ্কর ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির এগ্রিবিজনেস বিভাগ থেকে বিবিএ ইন এগ্রিবিজনেস এবং এমবিএ ইন এগ্রিবিজনেস—উভয় ডিগ্রিতেই সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে তিনি এ স্বর্ণপদকের গৌরব অর্জন করেন।
বর্তমানে প্রসেনজিৎ দাস বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), গাজীপুর-এর উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগে বৈজ্ঞানিক সহকারী হিসেবে কর্মরত আছেন। ধান প্রজনন, উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন এবং কৃষিতে উদ্ভাবনী প্রযুক্তির ব্যবহার—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তিনি নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
প্রসেনজিতের শৈশব কেটেছে মুছাপুর ইউনিয়নের শান্ত ও স্নিগ্ধ পরিবেশে। তার পিতা দুলাল চন্দ্র দাস একজন অবসরপ্রাপ্ত চাকুরিজীবী এবং মাতা বুলবুল রাণী দাস একজন গৃহিণী। দুই ভাইবোনের পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে শৈশব থেকেই পরিশ্রম, মনোযোগ ও লক্ষ্যনিষ্ঠাই ছিল তার প্রধান শক্তি।
তার শিক্ষাজীবনের সূচনা মুছাপুর হাজী আব্দুল বাতেন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। তিনি ২০০৯ সালে মাধ্যমিক এবং ২০১৩ সালে হাটহাজারী কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়ে এগ্রিবিজনেস বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে ধারাবাহিকভাবে সর্বোচ্চ একাডেমিক ফলাফল অর্জন করেন। ইতোমধ্যে তার একটি গবেষণা প্রবন্ধ আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে, যা তার গবেষণাভিত্তিক ক্যারিয়ারের শক্ত ভিত তৈরি করেছে।
স্বর্ণপদক প্রাপ্তির অনুভূতি প্রকাশ করে প্রসেনজিৎ দাস বলেন,
“এই অর্জন আমার একার নয়। আমার সম্মানিত শিক্ষকমণ্ডলী, পিতামাতা, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, সহপাঠী ও শুভানুধ্যায়ী সকলের সহযোগিতা, ভালোবাসা ও প্রেরণা ছাড়া আমি আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে পারতাম না। আমি সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং দোয়া কামনা করছি।”
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি আরও বলেন,
“বাংলাদেশের ধান গবেষণা ও কৃষি উন্নয়নে বাস্তবসম্মত, কৃষকবান্ধব এবং জলবায়ু-সহনশীল উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করতে চাই। আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার মাধ্যমে দেশের কৃষিক্ষেত্রকে আরও এগিয়ে নেওয়াই আমার প্রত্যাশা।”

