রাঙামাটির তিন উপজেলায় ইরি ও অংশীদারদের হেড-টু-হেড প্রদর্শনী কার্যক্রমে কৃষকের স্বপ্নপূরণ
পার্বত্য চট্টগ্রামের চ্যালেঞ্জিং ভূপ্রাকৃতিক পরিবেশে কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট (ইরি) দীর্ঘদিন ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ অঞ্চলের কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক ও টেকসই রূপ দিতে ইরি নানা উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এরই ধারাবাহিকতায়, বোরো ২০২৪–২০২৫ মৌসুমে ইরি ও এগ্রিবিজনেস এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ইন্টারন্যাশনাল-এর যৌথ বাস্তবায়নে রাঙামাটির তিনটি উপজেলায় হেড-টু-হেড ধান প্রদর্শনী কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
এই কার্যক্রমের আওতায় রাঙামাটি সদর উপজেলার শুকরছড়ি বড়ো পারা, কাউখালী উপজেলার পশ্চিম লুঙ্গিপাড়া ও কাপ্তাই উপজেলার উত্তর বনগ্রামে আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের তত্ত্বাবধানে উচ্চ ফলনশীল (উফশি) জাতসমূহের নমুনা শস্য কর্তন অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনী চাষে ব্রি ধান-৮৮ সর্বোচ্চ ফলন (৮.৪ টন/হেক্টর) দিয়ে কৃষকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করে। এছাড়াও ব্রি ধান-১০২, ১০০, ৭৪ ও ২৮ জাতসমূহ ৫.২ থেকে ৭.৮ টন/হেক্টর হারে ফলন দিয়ে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করে।
২৯ এপ্রিল, ২ মে ও ৩ মে ২০২৫ তারিখে যথাক্রমে কাপ্তাইয়ের মাসুদুর রহমান, কাউখালীর থুইস্যাংমা মারমা ও রাঙামাটি সদরের নীল চন্দ্র চাকমার জমিতে অনুষ্ঠিত নমুনা শস্য কর্তন অনুষ্ঠানে কৃষক, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শস্য কর্তন অনুষ্ঠানে ইরি’র Lead Specialist – Seed System & Product Management ড. মোহাম্মদ আশরাফুল হাবিব বলেন, “এই অঞ্চলে কৃষকদের চাহিদা বুঝে ধানের জাত নির্বাচন ও উন্নয়ন ইরির দীর্ঘমেয়াদি অগ্রাধিকার। এই প্রদর্শনী কার্যক্রম ভবিষ্যতের কার্যকরী প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যম।” তিনি আরও বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের কৃষকরা এখন আর পিছিয়ে নেই। ইরি উদ্ভাবিত জাতসমূহ মাঠপর্যায়ে সফলভাবে পরীক্ষা ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে পাহাড়ি কৃষিকে নতুন যুগে নিয়ে যাচ্ছে।”
এই প্রদর্শনী শুধুই ধান জাতের প্রযুক্তি দেখানোর কার্যক্রম নয়, বরং এটি একটি জনগণ-ভিত্তিক কৃষি রূপান্তরের মডেল। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের মতামত ও বাস্তব ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে জাত নির্বাচন, প্রযুক্তি সম্প্রসারণ ও অভিযোজনযোগ্য কৃষির উন্নয়নই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
এই প্রদর্শনীগুলো পাহাড়ি কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে। ফলন, রোগ প্রতিরোধ ও বাজারজাতকরণের সুবিধা বিবেচনায় এই জাতগুলোর সম্প্রসারণ পার্বত্য অঞ্চলের কৃষকের আয় বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।