: কৃষিবিদ এম. এম. শাহপরান
কৃষিই কৃষ্টি! কৃষিই সমৃদ্ধি! কৃষিকে ঘিরেই মানবসভ্যতার জাগরণ শুরু। ‘কৃষি’ পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাচীনতম বিষয়গুলোর অন্যতম। মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত কৃষির বিকল্প নেই।
বাংলাদেশের কৃষিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমাদের সবাইকে পর্যাপ্ত কৃষিবিষয়ক জ্ঞান অর্জন করতে হবে। কৃষিবিষয়ক জ্ঞান অর্জনের জন্য আমাদের কৃষি বিষয়ে পড়াশোনা করতে হবে।
আপনারা জানেন, কৃষিবিষয়ক জ্ঞান অর্জনের জন্য বাংলাদেশে সরকারি ১৮টি কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ATI) রয়েছে, যেখানে ৪ বছরের কৃষি ডিপ্লোমা কোর্স চালু রয়েছে। এছাড়াও, অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও এই কোর্স চালু রয়েছে। প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী কৃষি ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করে দেশের কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
কিন্তু সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, এই ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ রাখা হয়নি। পৃথিবীর কোনো দেশে এমন বৈষম্য আছে বলে আমার জানা নেই। অন্যান্য দেশে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অথচ আমাদের দেশের ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের উচ্চশিক্ষার প্রচণ্ড আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও তাদের এই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। পরিকল্পিতভাবে দেশের কৃষিকে পিছিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হিসেবে ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের উচ্চশিক্ষার পথ রুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ উন্মুক্ত রয়েছে। ডুয়েটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তারা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে। ডিপ্লোমা কৃষিবিদদেরও ঠিক তেমনিভাবে সরকারিভাবে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া উচিত। দেশের প্রতিটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের জন্য আসন বরাদ্দ রাখা উচিত। প্রয়োজনে তাদের জন্য স্বতন্ত্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা উচিত। এতে দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী কৃষিবিষয়ক উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হবে এবং কৃষি হবে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।
আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ আমাদের মাটি ও মানুষ। কৃষিই হলো আমাদের জীবন ও জীবিকা। কৃষিকে নিয়েই বিশ্বের মানচিত্রে আমাদের মাথা উঁচু করে টিকে থাকতে হবে। সেজন্য দেশের কৃষিশিক্ষাকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানো জরুরি। কৃষির নতুন প্রযুক্তি সম্প্রসারণসহ দেশের সার্বিক কৃষি ব্যবস্থার নেতৃত্বে রয়েছেন যে সকল ডিপ্লোমা কৃষিবিদ, তারা যদি আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যোগ্য হিসেবে গড়ে না ওঠেন, তাহলে কৃষি নিয়ে আমাদের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে। তাই উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের উচ্চশিক্ষার বিকল্প নেই।
নীতিনির্ধারকদের উচিত, এসব বিষয় গভীরভাবে চিন্তা করে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা। আশা করি, খুব দ্রুতই ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের প্রাণের দাবির বাস্তবায়ন হবে, ইনশাআল্লাহ।

