ঢাকার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত রমনা পার্ক বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহাসিক ও মনোরম একটি উদ্যান। ১৯ শতকের শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠিত এই পার্কটি, যা তার দৃষ্টিনন্দন ল্যান্ডস্কেপ এবং বিশাল সবুজ প্রান্তরের জন্য সুপরিচিত, ঢাকার নাগরিকদের জন্য একটি নান্দনিক স্বস্তির জায়গা।
রমনা পার্কের সূচনা ব্রিটিশ আমলে, ১৮২৫ সালে, যখন শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি উদ্যান তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে এটি ঢাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে যায়। পাকিস্তান আমলে পার্কটি নতুনভাবে সাজানো হয় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পায়।
রমনা পার্কের প্রধান আকর্ষণ হলো এর বিশাল লেক, যা শান্ত পরিবেশের সাথে মিশে দর্শনার্থীদের মনকে প্রশান্ত করে। এছাড়াও পার্কে রয়েছে বোটানিক্যাল গার্ডেন, যেখানে অসংখ্য বিরল প্রজাতির গাছ রয়েছে।
প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে রমনা পার্কে শুরু হয় জীবনের স্পন্দন। এখানে মানুষেরা শরীরচর্চা করতে আসেন, কেউ বসে পড়েন বই নিয়ে, আবার কেউ পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে আসেন। এটি যেন ঢাকার মানুষের জন্য একটি মুক্তির জায়গা।
রমনা পার্কে প্রবেশ করতে কোনো টিকিটের প্রয়োজন হয় না। এ পার্কে প্রবেশ সম্পূর্ণ ফ্রি। এটি রমনা পার্কের জনপ্রিয়তার অন্যতম প্রধান একটা কারণ ।
রমনা পার্ক প্রতিদিন সকাল ৮:০০ টা থেকে সন্ধ্যা ৭:০০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত গেইট বন্ধ থাকে। রমনা পার্কের সাপ্তাহিক কোনো বন্ধের দিন নেই। সপ্তাহে ৭ দিনই খোলা থাকে।
বিভিন্ন জেলা এবং গ্রাম থেকে প্রতিদিন অনেক মানুষ নানা প্রয়োজনে ঢাকায় আসেন। কোন কোন কাজ করার ক্ষেত্রে কয়েক ঘন্টা অপেক্ষা করার প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে ঢাকা শহরে কোথাও একটু বিশ্রাম নেওয়ার জায়গা খুঁজে পাওয়া কষ্টকর। ঢাকার চারিদিক যেন ইট-পাথরের দালানকোঠায় ঢেকে গেছে। আর রাস্তার যানজট, কোলাহল, যানবাহনের ছুটে চলা ছাড়া কিছুই চোখে পড়ে না। তাই প্রশান্তির সাথে অপেক্ষা করার সময়টুকু কাটানোর জন্য রমনা পার্ক হতে পারে সবচেয়ে সেরা জায়গা।
স্কুল/কলেজ ড্রেস পরে রমনা পার্কে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
এরপরেও মাঝেমধ্যে স্কুল/কলেজ ড্রেস পরা ছাত্র-ছাত্রীদের অপ্রীতিকর অবস্থায় দেখা যায়। যেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ব্যাপারে কতৃপক্ষের সচেতনতা বাড়ানো উচিৎ।
রমনা পার্কে কিভাবে যাবেন:
ঢাকা শহরের যেকোনো জায়গা থেকে রমনা পার্কে যাওয়া যায়। প্রথমে যে কোন স্থান থেকেই রিক্সা, বাস, সিএনজি, পাঠাও বা মেট্রোরেলে চড়ে ঢাকার শাহাবাগে আসতে হবে। শাহবাগ মোড় থেকে একটু এগিয়ে সামনে গেলেই রমনা পার্কের অবস্থান।
রমনা পার্ক শুধু একটি উদ্যান নয়, এটি ঢাকার প্রাণ। শত ব্যস্ততার মধ্যে শহরের মানুষেরা এখানে এসে শান্তি খুঁজে পান, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনের চাপ থেকে মুক্তি দেয়। এমন একটি পার্কের সুরক্ষা ও উন্নয়ন আমাদের সবার দায়িত্ব।

