বাংলাদেশে ধান চাষে নতুন সম্ভাবনার নাম ব্রিধান১০৪। বাসমতির মতো সুগন্ধিযুক্ত এই জাতটি বোরো মওসুমে কৃষকদের জন্য একটি নতুন আশীর্বাদ। আজকের এখানে আমরা বোরো মওসুমের নতুন জাত ব্রিধান১০৪ এর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানব।
বৈশিষ্ট্যঃ
• ব্রি ধান১০৪ হলো বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) উদ্ভাবিত একটি উন্নত জাত।
• এ জাতের ডিগ পাতা খাড়া, প্রশস্ত ও লম্বা, পাতার রং সবুজ।
• পূর্ণ বয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা ৯২ সে. মি.।
• ১০০০টি পুষ্ট ধানের ওজন গড়ে ২১.৫ গ্রাম।
• এ ধানের দানায় অ্যামাইলোজের পরিমাণ শতকরা ২৯.২ ভাগ।
• এছাড়া প্রোটিনের পরিমাণ শতকরা ৮.৯ ভাগ।
• চাল লম্বা চিকন, রঙ সাদা এবং ভাত ঝরঝরে।
• এ জাতের ধান বাসমতি টাইপের তীব্র সুগন্ধী যুক্ত।
জীবনকালঃ
• ব্রি ধান১০৪ বোরো মওসুমে চাষ উপযোগী একটি স্বল্প মেয়াদী (Short-duration) জাত।
• এ জাতের জীবনকাল ব্রি ধান৫০ এর প্রায় সমান।
• এ জাতটির গড় জীবনকাল ১৪৭ দিন।
বীজ বপনঃ ০১-২০ অগ্রহায়ণ অর্থাৎ (১৫ নভেম্বর থেকে ০৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত) বীজতলায় বীজ বপন করার উপযুক্ত সময়।
চারা রোপনঃ ৩৫-৪০ দিন বয়সী চারা রোপনের উপযোগী হয়।
ফলনঃ
• এ জাতের হেক্টরে গড় ফলন ৭.৩ টন। একর প্রতি গড় ফলন ৭৩ মন। বিঘা প্রতি গড় ফলন ২৪ মন।
• উপযুক্ত পরিবেশে সঠিক ব্যবস্থাপনা করলে এ জাতটি হেক্টরে ৮.৭১ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। যা একরে ৮০ মন। বিঘায় ২৯ মন।
বিশেষ প্রয়োজনীয়তাঃ
• ব্রি ধান১০৪ এর জীবনকাল ব্রি ধান৫০ এর প্রায় সমান হলেও ফলন বেশি।
• এ জাতের ধান বাসমতি টাইপের তীব্র সুগন্ধী যুক্ত।
• এ জাতের ধান বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায় এবং বিদেশে রফতানিযোগ্য।
ফসল কর্তনঃ ০১-১৫ বৈশাখ অর্থাৎ (১৫-৩০ এপ্রিল) ধান কটার উপযুক্ত সময়। শীষের শতকরা ৮০ ভাগ দান পরিপক্ব হলে দেরূ না করে ধান কেটে ফেলা উচিত।
ব্রিধান ১০৪ হলো বাংলাদেশের কৃষিতে এক নতুন দিগন্ত। স্বল্প মেয়াদী তাই পানি ও সারের প্রয়োজন কম হওয়ায় এটি পরিবেশবান্ধব জাত। উচ্চ ফলনশীল, প্রতিকূল পরিবেশে সহনশীল এবং সহজ চাষাবাদের জন্য এটি একটি আদর্শ জাত। চলুন, আমরা সবাই মিলে ব্রিধান১০৪ চাষ করে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করি এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করি।

