ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় প্রথমবারের মতো জিরা চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখেছেন এক তরুণ কৃষক। তার এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে এবং সম্ভাবনা তৈরি করেছে মসলা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার।
উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের তারাইল গ্রামের বাসিন্দা অমিত কুমার দাস (২৩), পিতা গোপাল চন্দ্র দাস, ১০ শতাংশ জমিতে উন্নত জাতের জিরা চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন। তার এই সাফল্য ইতোমধ্যে এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
কৃষি অফিসের উদ্যোগে প্রথম প্রদর্শনী প্লট উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মসলার উন্নত জাত ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ভাঙ্গায় প্রথমবারের মতো জিরা চাষের একটি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়। এই প্লটে চাষ করা হয় বারি জিরা-০১ জাতের জিরা।
কৃষি বিভাগের কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ অনুযায়ী চাষাবাদ করে সফলতা পান অমিত কুমার দাস।
অমিত কুমার দাস জানান, “কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী জিরা চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে এবং আশা করছি এতে আমি লাভবান হব। ভাঙ্গা উপজেলায় এই প্রথম জিরা চাষ করে সফলতা পেয়েছি। ইতোমধ্যে জমি থেকে ফসল সংগ্রহ করেছি।”
স্থানীয় কৃষকরা জানান, অমিতের এই সাফল্য তাদের নতুন করে ভাবতে উৎসাহিত করেছে। অনেকেই এখন জিরা চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এভাবে জিরার মতো মসলা ফসলের চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে দেশে আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
বাংলাদেশে জিরা একটি গুরুত্বপূর্ণ মসলা হলেও এর বড় একটি অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে স্থানীয়ভাবে এর চাষ সম্প্রসারণ হলে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উপযুক্ত প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জিরা চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

