ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার অন্তর্গত কৃঞ্চনগর গ্রামের মো: শফিকুল ইসলাম এখন কৃষ্ণনগর গ্রাম তথা মুক্তাগাছা উপজেলায় একজন সফল ও মডেল কৃষক। আজ আপনাদের জানাবো তার সফলতা ও সফলতার পিছনের গল্প।
কৃষ্ণনগর গ্রামের ফজলুল হকের তৃতীয় ছেলে মোঃ শফিকুল ইসলাম, পেশায় একজন কাঠ শ্রমিক, দুই সন্তান নিয়ে চার জনের ছোট্ট একটি সংসার। বসতবাড়ির ২৫ শতক জমি ছাড়া নেই কোন কৃষি জমি, বাড়ীর আঙিনায় অপরিকল্পিত ও অপরিচ্ছন্ন ভাবে চাষ করতো সামান্য কিছু শাক-সবজি। কাঠ শ্রমিক কাজের মজুরি ও অপরিকল্পিত চাষাবাদের ফলে অভাব অনটন লেগেই থাকতো, তার এই আর্থিক দৈন্যতা ও বসত বাড়ীর ২৫ শতক জমি সম্পর্কে জানতে পারেন লাঙুলিয়া ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা। তিনি তার ২৫ শতক জমিকে কিভাবে অধিক উৎপাদনশীল করতে হয় এ ব্যাপারে তাকে পরিকল্পিত ক্র্যাচ ম্যাপ দেন এতে সে বেশ আগ্রহী হয়ে উঠে।
পরবর্তী সময়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরন প্রকল্পের আওতায় “মডেল গ্রাম” প্রদর্শনীর মাধ্যমে তাকে সরকারি ভাবে সহযোগিতা প্রদান করা হলে তার পরিশ্রম ও উদ্যোগ গ্রহণ করার সক্ষমতা তাকে খুব দ্রুত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এনে দেয়। এখন সে তার ২৫ শতক জমিতে উক্ত প্রকল্পের সহযোগিতায় ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে ভার্মি কম্পোস্ট সার, জৈব সার, নিরাপদ সবজি চাষ, ফল বাগান, ঔষধী বাগান, বস্তায় আদা, ছায়াযুক্ত জায়গায় হলুদ এবং চারা উৎপাদনের জন্য মিনি নার্সারি স্থাপন করেছেন। যেখান থেকে সে এখন প্রতিদিন আয় করছেন এবং তার বাড়িটা এখন তার এলাকায় মডেল বাড়ীতে পরিনত হয়েছে।
কৃষক মোঃ শফিকুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি জানান, এলাকায় জৈব সারের চাহিদা প্রতিনিয়তই বাড়তে থাকায় তিনি নিয়মিত জৈব সার-১০ টাকা কেজীতে,ভার্মি কম্পোস্ট -১৫ টাকা কেজী, কেচুঁ-১২০০ টাকা কেজী দরে বিক্রি করছেন। এতে তার শুধু সার থেকেই প্রতি মাসে আট থেকে দশ হাজার টাকা আয় হয়। পাঁচ শতক জমিতে নিরাপদ সবজি চাষ করে আয় হচ্ছে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা। মিনি নার্সারি থেকে সবজির চারা বিক্রি করে আয় হয় দুই থেকে তিন হাজার টাকা।
তিনি আরো বলেন, বস্তায় আদা ও হলুদ থেকে বাৎসরিক পনেরো থেকে বিশ হাজার টাকা আয় হবে, ফল বাগান থেকে বাৎসরিক চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা এবং ঔষধী বাগান থেকে সংগ্রহীত উপদান দিয়ে জৈব কীটনাশক প্রস্তুুত করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: কামরুজ্জামানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমরা কৃষকের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছি এবং কৃষক যেন তার জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে জমিকে অধিক উৎপাদনশীল করতে পারে সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।

