নিজস্ব প্রতিবেদক:
সমুদ্রে ইলিশ ধরার সময় জেলেরা যে বিপুল পরিমাণ মাছ শিকার করেন, তার দুই-তৃতীয়াংশই সমুদ্রে ফেলে দেন বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। এর ফলে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘খাদ্যের অপচয় রোধের মাধ্যমে টেকসই খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মৎস্য উপদেষ্টা। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।
ফরিদা আখতার বলেন, “সমুদ্রে মাছ ধরার নৌযানগুলো সাধারণত ইলিশ বা নির্দিষ্ট কিছু মাছ ধরার উদ্দেশ্যেই যায়। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা মাছের অবস্থান নির্ণয় করে, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ইলিশ ধরে এবং অন্যান্য প্রজাতির মাছ সমুদ্রে ফেলে দেয়। এতে বিপুল পরিমাণ সামুদ্রিক মাছ নষ্ট হচ্ছে, যা পরিবেশ ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।”
তিনি আরও বলেন, “গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও এখনও দেশে অপুষ্টি ও খাদ্য বৈষম্য রয়ে গেছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে খাদ্যের অপচয় রোধ এখন সময়ের দাবি।”
বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (WFP) তথ্য উল্লেখ করে ফরিদা আখতার জানান, দেশে এখনও প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, যা আগামী ২০২৫ সাল পর্যন্ত চলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “দেশে খাদ্য উৎপাদনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায়—কৃষকের খামার থেকে শুরু করে ভোক্তার টেবিল পর্যন্ত—প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ টন খাদ্য নষ্ট হচ্ছে। একদিকে মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে, অন্যদিকে খাদ্যের অপচয় বাড়ছে; এই বৈপরীত্য দূর করতে এখনই সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।”

