‘কুরবানী’ শুধুই পশু জবেহের অনুষ্ঠান নয়— এটি ত্যাগ, আন্তরিকতা ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশের মহৎ এক উৎসব। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবগুলোর একটি ঈদুল আজহা, যেখানে সামর্থ্যবানরা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কুরবানী করেন। এই অনুশীলন শুধু ধর্মীয় দায়িত্ব পালনই নয়, সমাজে সহমর্মিতা ও সাম্যবোধ সঞ্চার করে। কুরবানীর গোশত ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই ভাগ করে খায়— যা সামাজিক সাম্যের অনন্য উদাহরণ।
তবে দুঃখজনকভাবে, প্রতি বছর ঈদুল আজহার সময় এলেই কিছু তথাকথিত সুশীল, মানবাধিকার ও সাংস্কৃতিক একটিভিস্ট কুরবানীর বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তুলতে দেখা যায়। তারা একে ‘নির্দয়তা’, ‘নিষ্ঠুরতা’ ইত্যাদি শব্দের মাধ্যমে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন। অথচ প্রশ্ন থাকে— এই সহানুভূতি কি শুধুমাত্র কুরবানীর পশুর ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ?
প্রতিদিন আমাদের খাদ্যতালিকায় যে মাছ, মুরগি, গরু, খাসি, এমনকি উদ্ভিদজাত খাবার— চাল, ডাল, শাক-সবজি— এসব কি প্রাণ বা জীবনের অংশ নয়? এই মাথামোটাদের যে গাঁজা ছাড়া একদিনও চলে না। সে গাঁজার গাছেরওতো জীবন আছে! তারা যখন গাছের কচি অংশ কিংবা ফলমূল ভক্ষণ করেন, তখন সেটিও তো একধরনের প্রাণঘাত।
জীবের প্রতি মমতা যদি সত্যিই তাদের নীতিগত অবস্থান হয়, তাহলে তারা প্রতিদিনের খাদ্যগ্রহণ, গাছপালা কাটাসহ অন্যান্য জীবন্ত প্রাণ ও প্রকৃতির উপাদান নিধনের প্রতিও সমানভাবে প্রশ্ন তুলছেন না কেন?
তাহলে কুরবানীর মতো একটি ধর্মীয় রীতি নিয়েই শুধু প্রশ্ন তোলার এই প্রবণতা কেন?
আসলে এই সমালোচনার পেছনে অনেক সময় ইসলাম ও এর চর্চার প্রতি একটি পূর্বপরিকল্পিত বিরূপ মানসিকতা কাজ করে। শুধু কুরবানী নয়— আজানের শব্দ, রমজানের রোজা, পর্দা বা হিজাব— এসব বিষয়ও প্রায়শই একই গোষ্ঠীর দ্বারা কটাক্ষের শিকার হয়।
আমরা মনে করি, সমালোচনা যদি হয় সদ্ভাবনায়, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য। কিন্তু যদি তা হয় ধর্মবিশ্বাসকে আঘাত করার উদ্দেশ্যে, তাহলে আমাদেরও সচেতনভাবে তার মোকাবিলা করতে হবে।
কুরবানী শুধু এক ধর্মীয় রীতি নয়, এটি সমাজে সহানুভূতি, আত্মত্যাগ এবং আল্লাহর নির্দেশ মানার এক প্রতীক। তাই এ রীতি নিয়ে যারা বারবার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিতর্ক সৃষ্টি করেন, তাদের প্রকৃত অভিপ্রায় আমাদের চিনে রাখা প্রয়োজন।

