প্যাথোজেন: Xanthomonas campestris pv. oryzae
🔍 লক্ষণ
- পাতার কিনারায় পানি ভেজা দাগ দেখা যায় যা ধীরে ধীরে ঘোলাটে রং ধারণ করে।
- পাতার দুই কিনারা এবং পুরো পাতায়ই রোগের দাগ ছড়িয়ে পড়ে।
- আক্রান্ত পাতা ধূসর-সাদাটে হয়ে খড়ের মতো ঝলসে যায়।
- গাছের পরিবহন কলা ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয়।
- মাইক্রোস্কোপে আক্রান্ত পাতার অংশে অসংখ্য ব্যাকটেরিয়া দৃশ্যমান।
- গাছের গুণগত মান ও ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
🔄 রোগ চক্র
- বীজ, মাটি, পানি ও বায়ুর মাধ্যমে রোগ বিস্তার লাভ করে।
- কাদায় জীবাণু দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পারে।
- গাছের ক্ষতস্থান দিয়ে প্যাথোজেন অনুপ্রবেশ করে।
- পটাশ সারের ঘাটতি এবং অতিরিক্ত নাইট্রোজেন রোগ বিস্তারে সহায়ক।
- ঝড়ো হাওয়ার কারণে রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
- ২৬–৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়।
✅ প্রতিকার
- সুস্থ ও রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার করুন।
- কার্বেন্ডাজিম ৫০WP (৩ গ্রাম/লিটার পানি/কেজি বীজ) দিয়ে বীজ শোধন করুন।
- আক্রান্ত জমির খড়কুটা পুড়িয়ে ফেলুন।
- শস্য পর্যায় অনুসরণ করুন।
- রোগ প্রতিরোধী জাত ব্যবহার করুন।
- সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করুন।
- ঝড়-বৃষ্টি ও রোগ দেখা দেওয়ার পর ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ বন্ধ রাখুন।
- কৃসেক হলে জমির পানি শুকিয়ে ৭–১০ দিন পর পুনরায় সেচ দিন।
- পটাশ + থিয়োভিট + চিলেটেড জিংক (৫+৪+১ গ্রাম/লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করুন)।
- কপার অক্সিক্লোরাইড ৫০WP (ব্লাইটক্স/কুপ্রাভিট/সালটক্স/সলুকক্স/সানভিট/ব্লুকাপ/অক্সিভিট) – যেকোনো একটি ২ গ্রাম/লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করুন।
- ব্যাকট্রিওমাইসিন SC (কেসাইক্লিন/এন্টিব্যাক/টেট্রাসাইক্লিন/ক্রোসিন) – যেকোনো একটি ১ গ্রাম/১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করুন।
ধানের রোগ, ধান চাষ, ব্যাকটেরিয়া জনিত পোড়া রোগ, Bacterial leaf blight of rice, Xanthomonas oryzae, ধান উৎপাদন, কৃষি প্রযুক্তি, চাষাবাদ ডটকম, ধানের ফলন, কৃষকের সমস্যা, কৃষি রোগ প্রতিকার

