সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকার আর দেরি করতে চায় না। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ৯ম জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ সালের শুরু থেকেই গেজেট আকারে কার্যকর হতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য পরবর্তী রাজনৈতিক সরকারের জন্য অপেক্ষা করা হবে না। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটেই প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হবে।
২০২৫ সালের ২৭ জুলাই সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানকে সভাপতি করে জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ গঠন করা হয়। কমিশনকে সাধারণত ৬ মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
এরই মধ্যে কমিশন সর্বসাধারণের মতামত নেওয়ার জন্য একটি অনলাইন প্রশ্নমালা উন্মুক্ত করেছে, যা ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত পূরণ করা যাবে। প্রশ্নমালায় ন্যায়সংগত ও কার্যকরী বেতন কাঠামো প্রণয়নে সহায়ক ৪টি প্রশ্ন রাখা হয়েছে।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন—
“সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই গেজেটের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য পরবর্তী রাজনৈতিক সরকার পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে না।”
কাঠামো ও ভাতা বৃদ্ধি
বর্তমানে সর্বোচ্চ (গ্রেড-১) ও সর্বনিম্ন (গ্রেড-২০) বেতনের অনুপাত প্রায় ১০:১। কমিশন নতুন কাঠামোতেও এই অনুপাত ৮:১ থেকে ১০:১–এর মধ্যে বজায় রাখার চিন্তা করছে। এ ছাড়া বিদ্যমান ২০টি গ্রেড থেকে কমিয়ে ১৫ বা ১২টি গ্রেডে আনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
কমিশনের এক সদস্য গণমাধ্যমকে জানান, বেতন বৃদ্ধির হার এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে অনুপাত ৮:১ থেকে ১০:১–এর মধ্যে থাকবে। প্রতিবেশী দেশগুলোতেও এ ধরনের অনুপাত প্রচলিত।
এছাড়া কমিশন চিকিৎসা ও শিক্ষা ভাতা বৃদ্ধির প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে একজন কর্মচারী চাকরির শুরু থেকে অবসর পর্যন্ত মাসে ১,৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। নতুন কাঠামোয় ভাতা বৃদ্ধি এবং অবসরোত্তর সময়েও অতিরিক্ত সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে সন্তানদের শিক্ষা ভাতা বাড়ানো নিয়েও সুপারিশ আসবে।
ট্যাগস:
৯ম জাতীয় বেতন স্কেল, নতুন পে স্কেল, সরকারি কর্মচারীর বেতন, বেতন কমিশন ২০২৫, অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ সরকারি চাকরি, চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি, শিক্ষা ভাতা বৃদ্ধি, গ্রেড হ্রাস, সরকারি বেতন কাঠামো

