প্রতি ইউনিয়নে ৩ জন ডিলার, দ্বিগুণ জামানত; কমিশন অপরিবর্তিত
আগামী জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫’। এর মাধ্যমে পূর্বের ২০০৯ সালের নীতিমালা প্রতিস্থাপিত হবে।
নীতিমালার মূল দিকগুলো
- প্রতি ইউনিয়নে ৩ জন ডিলার থাকবেন এবং প্রতি ওয়ার্ডে (৯টি) একটি করে নিজস্ব সেলস সেন্টার গড়ে তুলতে হবে।
- আলাদা কোনো খুচরা ডিলার থাকবে না; বিসিআইসি ও বিএডিসির পৃথক ডিলার ব্যবস্থাও বাতিল করা হয়েছে।
- নতুনভাবে এক ছাতার নিচে সার ব্যবস্থাপনা আসছে। আমদানি থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা চালু হবে।
- ডিলারশিপের জামানত দ্বিগুণ হয়ে চার লাখ টাকা করা হয়েছে, তবে কমিশন আগের মতোই থাকছে।
- সরকারি কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, একই পরিবারের একাধিক সদস্য বা ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি ডিলার হতে পারবেন না।
- ডিলারশিপ নবায়নের জন্য প্রতি বছর আবেদন করতে হবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের দাবি—এই উদ্যোগের মাধ্যমে ডিলার সিন্ডিকেট ভাঙা, কারসাজি রোধ, স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও কৃষকবান্ধব বণ্টনব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
বর্তমান ডিলাররা বলছেন, জামানত বৃদ্ধি ও তিনটি বিক্রয়কেন্দ্র পরিচালনার ব্যয় বাড়লেও কমিশন অপরিবর্তিত থাকায় সমস্যায় পড়বেন তারা। এতে সার বিতরণে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে—ডিলার সরাসরি সরকারের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন, ফলে কৃষকরা নির্ধারিত দামে সঠিক সময়ে সার পাবেন।
নীতিমালাটি বাস্তবায়নের সময় হচ্ছে বোরো মৌসুম, যা দেশের খাদ্যনিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মৌসুম। খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সময় পরিবর্তন আনায় সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা চাপ তৈরি হতে পারে।
নতুন নীতিমালায় সার বিতরণব্যবস্থাকে আধুনিক ও কৃষকবান্ধব করার উদ্যোগ নেয়া হলেও বাস্তবায়নের সময় ও কমিশন-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঠপর্যায়ে শঙ্কা রয়ে গেছে।

