মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা থেকে:
“গ্রামে গ্রামে সবুজের প্রতিযোগিতা হোক, সবুজে ছেঁয়ে যাক আমাদের চারপাশ”—এই আহ্বান নিয়ে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমী সবজির বীজ বিতরণ অনুষ্ঠান। পুজকরা উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনের মূল বার্তা ছিল সবুজায়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব। গোমেতি সংবাদের আয়োজনে এবং নববাংলা সমন্বিত কৃষি খামারের সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুজকরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন। গোমেতি সংবাদের সম্পাদক মোবারক হোসেনের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের কুমিল্লা প্রতিনিধি মহিউদ্দিন মোল্লা, মাইটিভির কুমিল্লা প্রতিনিধি আবু মুসা, এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন, বাংলাদেশ (ডিকেআইবি) কুমিল্লা জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোসলেহ উদ্দিন সেলিম। এছাড়া স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মাহমুদা আক্তার শিরিনসহ বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
মাইটিভির প্রতিনিধি আবু মুসা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন,
“এই বীজ তোমাদের ভবিষ্যৎ নির্দেশক হিসেবে থাকবে। এগুলো যত্ন নাও। যখন এই গাছ বড় হবে, তোমাদের বাবা-মা আনন্দিত হবেন। গাছ লাগানো শুধু একটি কাজ নয়; এটি সওয়াবের কাজও। এটি তোমাদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।”
বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধি মহিউদ্দিন মোল্লা বলেন,
“গাছ লাগানো সাদকায়ে জারিয়া। মৃত্যুর পরও এর সওয়াব পাওয়া যায়। গ্রামের শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের ছোট মনে না করে, কারণ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ৯০% উঠে এসেছেন গ্রাম থেকে। আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যাও।”
গোমেতি সংবাদের সম্পাদক মোবারক হোসেন শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করে বলেন,
“আজকের এই বীজ শুধুই উপহার নয়, এটি একটি শিক্ষাও। তোমরা বীজের মতো, একদিন গাছে ফুল-ফল আসবে এবং তোমরা সফল হবে। আমরা চাই, দেশের একটুও জমি খালি না থাকুক। এ বীজ পরিবারের পুষ্টিমান বাড়াবে এবং শিশুরা ভালোভাবে বেড়ে উঠবে।”
পুজকরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন,
“এ ধরনের আয়োজন গ্রামে সচরাচর দেখা যায় না। যারা শহর থেকে এসব বীজ নিয়ে এসেছেন, আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমরা শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করব এসব বীজ বাড়ির আঙ্গিনায় লাগাতে। গাছ থেকে প্রাপ্ত ফসল পরিবারের জন্য পুষ্টিকর এবং আর্থিকভাবে উপকারী হবে। আমরা ভবিষ্যতে বীজ বপনকারীদের পুরস্কৃত করব।”
অনুষ্ঠানের অতিথিরা জানান, এই উদ্যোগ শুধু একটি স্কুলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গ্রামের বিভিন্ন প্রান্তে বীজ বিতরণ করে সবুজ বিপ্লব ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এই প্রচেষ্টা দেশের কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখবে।
নাঙ্গলকোটে আয়োজিত এই বীজ বিতরণ অনুষ্ঠান শুধু একটি আয়োজন নয়; এটি ছিল একটি সবুজায়নের মঞ্চ। এ উদ্যোগ যেমন শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৃষি ও সবুজায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেছে, তেমনই পরিবেশ রক্ষায় প্রেরণা জুগিয়েছে। এ ধরনের আয়োজন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লে তা পরিবেশ ও কৃষি উন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
চাষাবাদ ডটকম কৃষি সম্প্রসারণে এমন উদ্যোগগুলোকে তুলে ধরতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
আমাদের সাথে থাকুন সবুজ বাংলাদেশের স্বপ্ন গড়তে।

