ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (ডিকেআইবি) নির্বাচন আগামী শনিবার (২ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে ইশতেহার ঘোষণা করেছে ডিপ্লোমা এগ্রিকালচারিস্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডি-এ্যাব) মনোনীত পলাশ-জাহীদ প্যানেল।
শনিবার (১২ অক্টোবর) রাতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। ইশতেহার ঘোষণা করেন প্যানেলের মহাসচিব পদপ্রার্থী সৈয়দ জাহীদ হোসেন।
ডি-এ্যাব মহাসচিব সৈয়দ জাহীদ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থায় কর্মরত ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের কিছু ন্যায্য দাবী অপূরনীয় আছে। সেগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আমাদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। তাই এখানে আত্মতৃপ্তির কোন অবকাশ নেই, থেমে যাওয়ারও সুযোগ নেই। ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের জন্ম যেখানে মৃত্যু সেখানে চলমান, অর্থাৎ একই পদে কর্ম শুরু এবং শেষ হয় একই পদে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রানের পথ খুজে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের ন্যায্য অধিকার সমূহ আদায়ের লক্ষ্যে বুদ্ধিদীপ্ত ও কৌশল নির্ধারন করে সফল হতে আমরা দক্ষ, অভিজ্ঞ, মেধা সম্পন্ন টিম নিয়ে কাজ শুরু করেছি। সর্বস্তরের ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভবিষ্যত কর্ম পরিকল্পনা তৈরি করে অগ্রসর হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। এ ভাবেই আমরা ডিপ্লোমা কৃষিবিদ জাতির পেশার মান উন্নয়নসহ অন্যান্য বৈষম্য দূরীকরনে পদক্ষেপ গ্রহণ করে অনাগত ভবিষ্যতের স্বপ্নপূরনে কাজ করার সুযোগ দানে আপনাদের সমর্থন ও ভোট প্রার্থনা করছি।
তিনি পলাশ- জাহীদ প্যানেলের ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরেন। যেগুলো হচ্ছে-
১. ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্র ঢাকায় বহুতল ভবন তৈরীসহ ডি.কে.আই.বি কমপ্লেক্স নির্মানে আপনাদের সহযোগিতায় কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
২. কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ অন্যান্য সকল দপ্তর/ অধিদপ্তর/ বিভাগ/ সংস্থায় কর্মরত সকল ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের ন্যায়সংগত দাবী সমূহ বাস্তবায়ন করে তাদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করা।
৩. সময়মত নির্বাচনের মাধ্যমে সংগঠনের সৎ, যোগ্য ও সঠিক নেতৃত্ব তৈরীর মাধ্যমে সংগঠনকে শক্তিশালী করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৪. কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গুলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাভ‚ক্ত করা এবং শক্ষক হিসেবে ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৫. কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এর নাম পরিবর্তন করে যুগোপযোগী নাম কৃষি ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট প্রবর্তনে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ।
৬. কৃষি ডিপ্লোমা সনদ প্রাপ্তদের জন্য ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ন্যায় স্বতন্ত্র বিশ^বিদ্যালয়ে বিএসসি কৃষি (¯œাতক) বিষয়ে পড়ার সুযোগ সৃষ্টি করা।
৭. কৃষকের সেবা এবং কৃষির উন্নয়নের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিদ্যমান রিভিজিট রিভিউ করে বিভিন্ন স্তরে ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের পদসংখ্যা বৃদ্ধি করা।
৮. কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রকল্প সমূহে কৃষিবিদদের ন্যায় ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের ৩৩.৩৪% হারে প্রেষণে/সংযুক্তিতে নিয়োগ প্রদান করার ব্যবস্থা করা।
৯. উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তা/ সমমানদের বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ (৬মাস) বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
১০. কৃষকদের দ্রুত সেবা নিশ্চিতকরণে উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তা/ সমমানদের জন্য হায়ার র্পাচেজ ভিত্তিতে মোটরসাইকেল সরবরাহের ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা।
১১. উচ্চধাপে ফিক্সেসন প্রাপ্যতারবিষয়ে ৩/৪ বছরেরডিপ্লোমা সনদ নিয়েজটিলতানিরসনেকার্যকর উদ্যোগগ্রহন করা।
১২. উপসহকারী কৃষি কর্মককর্তাদের অধিকতর মনোযোগ সহকারে কৃষকের সাথে কাজ করার স্বার্থে পরিচিত পরিবেশে পদায়ন অর্থাৎ নিজ জেলায় পদায়নের ব্যবস্থা নিশ্চিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
১৩. ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের বি.সি.এস (কৃষি) ক্যাডারের প্রারম্ভিক পদ কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা/সমমান পদে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদেরন্যায় পদোন্নতি কোটা ২০% থেকে ৩৩.৩৪% এ উন্নীতকরনের বিষয়ে ২০১১ সনের কৃষি মন্ত্রণালয়ের তাগিদপত্র থাকাসত্তে¡ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এ বিষয়ে জোড়ালো পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
১৪. উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের গ্রেডেশন তালিকা অনুযায়ী সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৫. উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তা/ সমমান পদটি ১০ম গ্রেডভ‚ক্ত হওয়ায় বি.সি.এস কৃষি ক্যাডারে পদোন্নতির জন্য ফিডারপদ হিসেবে গণ্য করে ফিডার পদের সময়কাল কমিয়ে আনার কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৬. কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সকল দপ্তর/ অধিদপ্তর/ সংস্থা/ বিভাগের নিয়োগ বিধি পরিবর্তনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ২০১৮ সনের ১০৪১ স্মারকের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্তে¡ও নিয়োগ বিধি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এ বিষয়ে জরুরী ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
১৭. কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে সর্বশেষ নিয়োগপ্রাপ্তদের সন্নিবেশিত করে এস.এ.এ.ও/ সমমানদের গ্রেডেশন তালিকা হালনগাদ করা (চলমান) এবং এ.এ.ই.ও/ সমমানদের গ্রেডেশন তালিকা তৈরী করা।
১৮. উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তা/ সমমানদের ২য় শ্রেণী গেজেটেড পদমর্যাদা প্রাপ্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৯. কৃষক প্রশিক্ষণে এ.এ.ই.ও/ সমমানদের প্রশিক্ষক হিসাবে অন্তভর্‚ক্ত করণের ব্যবস্থা করা ।
২০. উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে যোগদানের পর থেকে ২০১৫ এর পে-স্কেল অনুযায়ী ১০ বছর পূর্তি এবং পরবর্তী ৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেডে বেতন প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণে পদক্ষেপ গ্রহণ।
২১. উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তার নিজের কর্মস্থল (বøক) ছাড়া অতিরিক্ত বøকের দায়িত্ব পালন করলে তাকে দায়িত্ব ভাতা প্রাপ্তির বিষয়ে প্রশাসনের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
২২. ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের পেশার মানউন্নয়নে গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সেল গঠন এবং বিভিন্ন সেমিনার, সিম্পোজিয়াম বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
২৩. বন্ধ হয়ে যাওয়া ‘ডিপ্লোমা কৃষিবিদ কল্যাণতহবিল’ পূণরায় চালুর মাধ্যমে বিপদগ্রস্থ ও অসুস্থ সদস্যদেরি চকিৎসা সহায়তা এবং ডিপ্লোমা কৃষিবিদগণের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাসহায়তা ও মেধাবীদের সংবর্ধণা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
২৪. সংগঠনের কার্যক্রম প্রচার, রাষ্ট্রীয় পেশাগত বিভিন্ন কর্মকান্ডের সফলতার চিত্র গণমাধ্যমে দেশ বাসির কাছে তুলে ধরার জন্য কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
২৫. ডিপ্লোমা কৃষিবিদ সদস্যগণের যুগোপযোগী যুক্তিসঙ্গত নিত্যনতুন সকল প্রস্তাবনা সমূহ আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে কার্যকর করা হবে।
উপরোক্ত ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সমূহ বাস্তবায়নে ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী পেশাজিবী অরাজনৈতিক সংগঠন হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে যেকোন বিভক্তি অপপ্রয়াস প্রতিহত কওে পরম্পরের প্রতি সহঅবস্থানের ভিত্তিতে বর্তমান ঐক্য, সুসংহত রেখে ডি.কে.আই.বি এর নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নির্বাহীকমিটিতে মেধাসম্পন্ন, অভিজ্ঞ, সৎ ও যোগ্য নেতৃবৃন্দকে নির্বাচিত করার জন্য সকল ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান সৈয়দ জাহীদ হোসেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- ডিকেআইবি আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শরীফ আবদুল কাদের, আব্দুর রহমান, আবু বকর সিদ্দিক, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান সরকার, এ. কে. আজাদ ফাহিম, মো. রুবেল প্রমুখ।

