মুক্তমত

আমাদের পরিচয়— আমরা বাংলাদেশি : এ. কে. আজাদ ফাহিম

বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে মাঝে মাঝে কিছু আধিপত্যবাদী ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী দেশের সম্প্রীতি নষ্ট করতে পাহাড় কিংবা সমতলকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালায়।

আমাদের মনে রাখতে হবে—“সংখ্যাগুরু” বা “সংখ্যালঘু” নয়, আমরা সকলে আগে বাংলাদেশি। পাহাড়ি-বাঙালি বিভাজনের দেয়াল তুলে নয়, বরং নাগরিক হিসেবে সমান সুযোগ ও ন্যায্যতা নিয়েই আমাদের এই দেশকে গড়ে তুলতে হবে।

অপরাধীর পরিচয় হবে কেবল অপরাধী হিসেবে, কোনো জাতি বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে নয়। কয়েকজন পাহাড়ির জঘন্য অপরাধকে পুরো পাহাড়ি সমাজের ওপর চাপানো যেমন ভুল, তেমনি কয়েকজন বাঙালির নৃশংসতার দায়ও পুরো বাঙালি সমাজের ঘাড়ে চাপানো সমান অন্যায়।

আমাদের দেশ বৈচিত্র্যময়— পাহাড়, সমতল, হাওড়, চর, দ্বীপ, নগর— সর্বত্র বসবাসকারীদের পরিচয় একটাই হওয়া উচিত: বাংলাদেশি। ৫৬ হাজার বর্গমাইলের প্রতিটি ইঞ্চি রক্ত ও জীবনের বিনিময়ে মুক্ত হয়েছে। তাই কেউ পিছিয়ে থাকলে তাদের উন্নয়নের দায় সরকারের যেমন আছে, তেমনি অগ্রসর নাগরিকদেরও আছে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়— আমাদের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষদের জন্য যুগ যুগ ধরে কোটার ব্যবস্থা ছিলো, এখনো আছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পরও আদালত তাঁদের জন্য সেই কোটাকে সংরক্ষণ করেছে। এতে কারও আপত্তি হয়নি। কারণ ন্যায্য দাবিকে আমরা সকলেই সম্মান করি।

অপরাধীকে যদি কেবল অপরাধী হিসেবে দেখা হয়, তবে সে দুর্বল হয়। কিন্তু তাকে যদি কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়ানো হয়, তবে অপরাধীই বরং শক্তিশালী হয়ে ওঠে। আর যারা ইস্যু পেলেই উস্কানি দিয়ে সম্প্রীতি নষ্ট করে, তারা আসলে দেশকেই দুর্বল করে, নিজেদের সাথেই প্রতারণা করে।

অভিযোগ বা দাবিদাওয়া থাকলে তার সমাধান আছে— সরকার, আইন ও আদালতের মাধ্যমে। তাই আইন সবার জন্য সমান হতে হবে, সরকারের অবস্থানও হতে হবে নিরপেক্ষ।

আমাদের দায়িত্ব— দেশকে ভালোবাসা, আইনকে সম্মান করা। আর আইনেরও দায়িত্ব— সকল নাগরিকের সমান রক্ষাকবচ হয়ে থাকা।

একটাই পরিচয়, একটাই অঙ্গীকার— আমরা বাংলাদেশি।

চাষাবাদ ডেস্ক

About Author

You may also like

মুক্তমত

কৃষিতে নারীর অবদানের প্রকৃত স্বীকৃতি নেই

|| এ. কে. আজাদ ফাহিম || আবহমান কাল থেকে আমাদের এই দেশ কৃষি প্রধান দেশ হিসেবে পরিচিত। কৃষি একটি মহান
মুক্তমত

কৃষি ডিপ্লোমাধারীরা কেন উচ্চশিক্ষা বঞ্চিত হবেন?

বাংলাদেশে ১৮টি সরকারি কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট রয়েছে। আর বেসরকারি পর্যায়ে রয়েছে ১৬২টি। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ছয় হাজারের বেশি পাস করে বের