চলমান কৃষি পোকামাকড়

শিম গাছে ক্ষতিকর কুডজু পোকা শনাক্ত: ডালজাতীয় ফসলে নতুন হুমকি

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো শিম গাছে ক্ষতিকর কুডজু পোকার (Kudzu bug) উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন দেশীয় গবেষকরা। ডালজাতীয় ফসল, বিশেষ করে শিম ও সয়াবিন উৎপাদনে এ পোকা ভবিষ্যতে বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাজধানীর শ্যামপুরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় প্যাকিং হাউসের উদ্ভিদ সংগনিরোধ ল্যাবকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ল্যাবরেটরিতে রূপান্তর প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এ পোকা প্রথম শনাক্ত হয়। গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. শামীম হোসেন নোমানের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ছায়েদুর রহমান, মো. আরমান হোসেন, আল-মামুন শিকদার ও মো. সোহেল রানা শিম গাছ থেকে কুডজু পোকার ডিম ও পূর্ণাঙ্গ পোকা সংগ্রহ ও শনাক্ত করেন।

কুডজু পোকা: বৈজ্ঞানিক পরিচয় ও ক্ষতির ধরন

অধ্যাপক ড. শামীম হোসেন নোমান জানান, কুডজু পোকা হেমিপটেরা বর্গ এবং প্লাটিয়স্টেথিডি পরিবারভুক্ত উল্লেখযোগ্য ক্ষতিকর পোকা। এটি মূলত ডালজাতীয় ফসলের রস শোষণ করে বেঁচে থাকে এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে সক্ষম।
চীন, ভারত ও মিয়ানমারে সয়াবিন ফসলে এ পোকা দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাপক ক্ষতির কারণ হলেও বাংলাদেশে এর উপস্থিতি আগ পর্যন্ত শনাক্ত হয়নি।

গবেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে—

  • ডিম হালকা বাদামী বা ধূসর রঙের
  • সাধারণত পাতার পেছনে বা কান্ডে দুই সারিতে ২৬–২৮টি ডিম পাড়ে
  • পূর্ণাঙ্গ পোকার আকার ৪.৫–৬.০ মিমি; রং অলিভ ব্রাউন বা সবুজ-বাদামী
  • শরীরে সাদা মোমজাতীয় আবরণ ও গন্ধথলি থাকে
  • নিম্ফ পাঁচটি ইনস্টার পর্যায় অতিক্রম করে
  • ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ হতে সময় লাগে ৬–৮ সপ্তাহ
  • প্রাপ্তবয়স্ক পোকা বাঁচতে পারে ২–৩ মাস

পোকাটি গাছের কান্ড, পাতা ও কচি শাখা থেকে রস চুষে নেয়, ফলে গাছ দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে। পাতায় হলুদ দাগ সৃষ্টি হয়, পাতা কুঁকড়ে যায় এবং সময়ের সাথে গাছ শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর ফলে ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

গবেষকদের মতে, সঠিক সময়ে দমন না করলে কুডজু পোকা স্থানীয়ভাবে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। দেশের ডালজাতীয় ফসলে এ পোকা নতুন হুমকি হিসেবে দেখা দিতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শিম ও সয়াবিন চাষিদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও নজরদারি জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন।

চাষাবাদ ডেস্ক

About Author

You may also like

চলমান কৃষি

ইরির তত্ত্বাবধানে খাগড়াছড়িতে উচ্চ ফলনশীল ধানের বাম্পার ফলন

খাগড়াছড়ি মহালছড়ি উপজেলার পাকিজাছড়ি গ্রামে এবং সদর উপজেলার ভূয়াছড়ির নতুন বাজার গ্রামে আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট (ইরি) তত্ত্বাবধানে কম সময়ে
চলমান কৃষি

সিলেটের বিশ্বনাথে ৩ দিন ব্যাপী কৃষি মেলার উদ্বোধন

সিলেটের বিশ্বনাথে উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ‘কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্প’র আওতায় ৩ দিনব্যাপী (৮-১০ মে) কৃষি