সোহেল অটল
হাদীরা কেন শা/উয়া-মা/উয়া ছিড়ে ফেলার ভাষা রাজনীতির মাঠে নিয়ে এলো?
‘চুদলিং পং’ কেন তরুনদের কাছে জনপ্রিয়?
এই প্রশ্নের উত্তর পেলেই শুদ্ধ ভাষার বিতার্কিক আব্দুন নূর তুষারের হঠাৎ উত্তেজিত হওয়ার কারণ বুঝতে সুবিধা হবে।
দীর্ঘ বছর ধরে এদেশে অগণতান্ত্রিক সিস্টেম চেপে বসে আছে। যে প্রজন্ম এখন মুখে ‘চুদলিং পং’ ভাষা তুলে নিয়েছে, তারা জন্মের পর থেকেই এই সিস্টেম দেখে আসছে।
তারা একই সঙ্গে পৃথিবীর উন্নত ও টেকসই গণতন্ত্র-ও দেখে বড় হয়েছে। কারণ, তারা অবাধ তথ্য প্রবাহের সুযোগ পেয়েছে। ইন্টারনেটের সুবিধা আরকি।
এই তরুণরা খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছে, তাদের দেশে গণতন্ত্রের মোড়কে সাধারণ জনগণকে ঠকাচ্ছে রাজনীতিবিদরা।
এবং এই ঠকাঠকি নিয়ে প্রতিবাদ করার সুযোগও রাজনীতিবিদরা রাখে নাই। দেশে কায়েম হয়েছে ফ্যাসিজম।
এই তরুণরা দীর্ঘ বছর ধরেই ক্ষোভে ফুঁসছিলো। প্রতিবাদের ভদ্রস্থ সব উপায় যখন ব্যর্থ, তখন বাধ্য হয়েই তারা ‘চুদলিং পং’ ভাষা ব্যবহার শুরু করেছে। তাদের জমাট ক্ষোভের প্রকাশে এর চেয়ে ভদ্রস্থ কিছু অবশিষ্ট ছিল না।
ঘটনাক্রমে দেশের মানুষও প্রচলিত রাজনৈতিক সিস্টেমের ওপর এতোটাই ক্ষুব্ধ যে, ওই চুদলিং পং ভাষাটাকে তারাও গ্রহণ করেছে।
কিন্তু তাতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে তুষারের মতো শুদ্ধ ভাষার সুশীলদের।
কারণ, এই দীর্ঘ ফ্যাসিজমকালে ওই শুদ্ধ ভাষার মারপ্যাঁচ দিয়েই তারা জনগণকে বেকুব বানিয়ে রেখেছেন। তাদের পরিশুদ্ধ ভাষার অতিসুক্ষ্ম চামচামি ফ্যাসিজমকে টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রেখেছে।
পরিবর্তে তারা পেয়েছেন বুদ্ধিজীবির স্বীকৃতি এবং ভোজ-মাস্তির রসদ।
৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক ভাষা যখন এক ঝটকায় ‘চুদলিং পং’ এ রূপান্তরিত হয়ে গেল, শুদ্ধ ভাষা তখন মার খেতে শুরু করলো। ওজন কমতে শুরু করলো বিতার্কিক ও সুশীলদের মুখের কথার।
মুচি-মজুরের দেশে শুদ্ধ ভাষার জোর এমনিতেই কম। তারপর সেই শুদ্ধ ভাষার ব্যবহার যদি হয় জুলুমকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে, তাহলে তার জোর আরো কমে যায়।
যদি ভাবেন, আব্দুন নূর তুষারের উত্তেজিত হয়ে পড়াটা ছিল হিট অব দ্য মোমেন্ট– তাহলে ভুল ভাবছেন।
মি. তুষার বহুদিন ধরেই রাগান্বিত। গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই তিনি ফুঁসছেন। কারণ, তার সুশীলীয় শুদ্ধতা ক্রমান্বয়ে মার খাচ্ছিল।
পরিসংখ্যান মুখস্ত করে, নানান মারপ্যাঁচ ভঙ্গিতে উপস্থাপনের জারিজুরি যখন ফাঁস হতে শুরু করলো, তখন থেকেই তিনি রাগান্বিত।
সুশীল আব্দুন নূর তুষারের এই উত্তেজিত হয়ে পড়াটা অবধারিতই ছিল।
লেখকঃ সাংবাদিক।

